-*পর্যটনে পুরুলিয়া*-

পুরুলিয়া সার্কিট
ঝালদা এবং অযোধ্যা সার্কিট
রঘুনাথপুর সার্কিট
বরন্তি
তিন দিনের ছোট অবকাশে পর্যটক হিসাবে আপনি আসতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক জেলা ডুংরি-ঝরনা পুরুলিয়ায়।

আপনার পর্যটনের ১ম দিন বরাদ্দ থাকুকঃ-

পুরুলিয়া শহর কেন্দ্রিক ভ্রমন সূচীর জন্য পায়ে পায়ে ঘুরে দেখুন পুরুলিয়ার সাহেব বাঁধ-সুভাষপার্ক জেলাবিজ্ঞান কেন্দ্র। পড়ন্ত বিকেলের একটু আগে চলে যান কুমারী কানন/ কুমারী ড্যাম্প। সন্ধ্যায় ডিয়ার পার্ক অতিথি নিবাস। রাতে যদি “পুরুলিয়ার নাচনী”দের সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা হয়, দেখতে মন চায় তাদের নৃত্য কৌশল, ডিয়ার পার্কের ঠিক বিপরীতে “পুরুলিয়া নাচনী উন্নয়ন সমিতির প্রাঙ্গঁনে চলে যান।শুনুন তাদের বঞ্চিত জীবনের ইতিহাস, সঙ্গীহন তাদের ‘নাচনী ঝুমুর’-এর নৃত্যের।

দ্বিতীয় দিনের পথ- ঝালদা এবং অযোধ্যা সার্কিটঃ-

পুরুলিয়া হয়ে আঘোর পুর ডুংরি (বহু প্রথিত যশা চিত্র পরিচালকের প্রিয় চিত্রায়ন ক্ষেত্র) দেখে জয়পুর রাজবাড়ী। দেখুন জয়পুর রাজাদের অসমাপ্ত “পাথরবাড়ী”। সেখান থেকে আপনি যান দেউলঘাটা। অপূর্ব নির্মান শৈলীর এই প্রাচীন মন্দির গুলি আপনাকে মুহুর্তে নিয়ে যাবে হাজার বছরের অতীত ইতিহাসের প্রান্তভুমিতে। দেউলঘাটা হয়ে রাগবোরমোড় পেরিয়ে বেগুনকোদর হয়ে “মুরগুমাড্যাম্প” পথে যেতে দেখুন অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্্যেথর পুরুলিয়াকে। কালি পাহাড়,চিন্টু পাহাড়,বানসা পাহাড়, নাম না জানা অন্যান পাহাড় সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আপনার ভ্রমন পথে। ‘মুরগুমা ড্যাম্প’ এবং ‘অযোধ্যা পাহাড়ের একপ্রান্ত ভ্রমন শেষে CADC –এর অতিথি নিবাস ‘মালবিকা, নিহারিকায় রাত্রি যাপন। এক দিন বা দু-দিন ও হয়তো আপনার পেরিয়ে যাবে অযোধ্যা পাহাড়, পাখি পাহাড়, বামনী ঝরনা, টুরগা ঝরনা, টুরগা ড্যাম্প, পি.পি.এস.পি. পাওয়ার প্রজেক্ট, ওসুলপুর ডুংরী,(শূন্য অঙ্কের চিত্রায়ন ক্ষেত্র) কুমারি নদীর উৎস দখতে দেখতে। অযোধ্যাপাহাড় থেকে বাগমুণ্ডি হয়ে আপনি আসুন ‘ চোড়িদা’ গ্রাম।পুরুলিয়ার ছৌ-এর মুখোশ তৈরিতে মগ্ন হয়ে আছে এক একটি গ্রাম।চোড়িদা গ্রাম নেমে বুড়দা মোড় থেকে ডান দিকে(৮/৯ কিমি:) গেলেই অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্্যেড় ভরা খয়রা বেরা ডেম্প।এবার আপনার গন্ত্যবস্থল পঞ্চকোট পাহাড়।

রঘুনাথপুর সার্কিটঃ-

অযোধ্যাপাহাড় থেকে বাগমুণ্ডি দিয়ে নেমে পুরুলিয়া উপর দিয়ে পঞ্চকোট এর পথ ধরুন। পথে পড়বে জয়চন্ডী পাহাড়। পুরুলিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ ভ্রমনক্ষেত্র। জয়চন্ডী পাহাড় এর উপর থেকে দেখুন রঘুনাথপুরকে। দিগন্তে চোখ মেললে একদিকে দেখা যাবে সাঁওতালডিহি আর একদিকে পঞ্চকোট পাহাড়। এবার জয়চন্ডী কে পিছনে রেখে চলে আসুন কাশীপুর রাজবাড়ী। সোজা আপনার গন্তব্য ‘পঞ্চকোট’ বন বাংলোয় রাত্রিযাপন। সকালে দেখুন রাজবাড়ীর পর পাহাড়ের কোলে দু-হাজার বছরের প্রাচীন রাজপরিবারের ধ্বংসাবশেষ। সেই সঙ্গে আর একটু এগিয়ে দেখে নিতে পাবেন দামোদরের উপর পাঞ্চেত ড্যাম্প। চতুর্থ দিনে আদ্রা – হাওড়া রেলপথে ফিরে যাওয়ার তাড়া।

আপনার অপেক্ষায় ছোট একটি পর্যাটন ক্ষেএ

আপনি পঞ্চকোট পাহাড়ে যাওয়ার আগে সাঁতুড়ি B.D.O office কে বামে রেখে আসতে পারেন ‘বরন্তি’ নামের ছোট বন পাহাড়ে ঘেরা জনপদে। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্্যে ঘেরা একটি নিবিড় সন্ধ্যা যাপনের মুগ্ধতা নীয়ে ফিরতে পারেন পঞ্চকোট পাহাড়ে।

 

(Source: D.I.C.O, Purulia)